প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

‘ইলিশ রপ্তানির সময় বাড়ানো আর ঠিক হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইলিশ রপ্তানির সময় বাড়ানো আর ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, আগে ইলিশ পাওয়াই যেতো না, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখন ইলিশ অনেক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে, আমার মনে হয় ৬৪টি জেলার সর্বত্র ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে ইলিশ পৌঁছানোর আমাদের একটি লক্ষ্য আছে। আমাদের কর্মসূচি সফল করতে পারলে ইলিশ সবার কাছে পৌঁছাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ইলিশ রপ্তানির সময় বাড়ানো আর ঠিক হবে না।

৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চলতি বছর ১ হাজার ৩৫২ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে উল্লেখ করে শ ম রেজাউল করিম বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বেশ কিছু দেশে ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি হয় ভারতে, সেখান থেকে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে। হাইকোর্ট যদি কোনো আদেশ দেন, তাহলে অবশ্যই সেটি প্রতিপালন করা হবে। বাণিজ্যিকভাবে ইলিশের রপ্তানি এভাবে হয়নি, এবার যে পরিমাণ রপ্তানি হয়েছে। এবার অধিকাংশ রপ্তানি ভারতে হয়েছে। অন্যান্য কয়েকটি দেশেও ইলিশ গেছে, সেগুলো উপহার কিংবা ব্যক্তিগতভাবে গেছে। কিন্তু বাণিজ্যিক ইলিশ রপ্তানি হয়েছে ভারতে।

তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ইলিশের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন সময় বিবেচনায় নিয়ে মৎস্য সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধের সময় ২২ দিন করা হয়েছে। প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ সমৃদ্ধ এলাকার জেলেদের জীবনধারণের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চলতি বছর জাটকা ধরা নিষিদ্ধকালে দেশের ২০ জেলার ৯৭টি উপজেলায় জাটকা আহরণে বিরত ৩ লাখ ৯০ হাজার ৭০০ জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি হারে ফেব্রুয়ারি-মে পর্যন্ত ৪ মাসের জন্য ৫৯ হাজার ১৪১ মেট্রিক টন ভিজিএফ দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে সামুদ্রিক জলসীমায় ৬৫ দিন মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালে সমুদ্র উপকূলীয় ৩ লাখ ১১ হাজার ৬২টি জেলে পরিবারকে ২৬ হাজার ৮৩ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা করা হয়েছে। গত ১২ বছরে দেশে ইলিশ আহরণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এ সময়ে দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির হার প্রায় ৯০ শতাংশ। এ বছর জেলেদের জন্য ভিজিএফ-এর পরিমাণ বাড়িয়ে পরিবার প্রতি ২০ কেজি হতে ২৫ কেজিতে উন্নীত করা হয়েছে। এর আওতায় দেশের ৩৭ জেলার ১৫৫ উপজেলায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮৭ টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি হারে ১৩ হাজার ৮৭২ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা করা হচ্ছে।

ভয়েসনিউজ/এনআই

শেয়ার করুন: